আঁকা-আঁকি যাদের
নেশা, গ্রাফিক্স ডিজাইন তাদের জন্য একটি ভালো পেশা। যারা ফুল, ফল,পাখি,
নদী-নালা, প্রকৃতি, ঘর-বাড়ি ইত্যাদির ছবি হাতে-কলমে আঁকতেন তাদের জন্যে এই লেখা।
কাগজে হাতে-কলমে আঁকা-আঁকির কাজ যেমন সময়সাপেক্ষ তেমনি অর্থ
সাপেক্ষ্ও বটে। কম্পিউটারে আপনি এ
কাজ কম সময়ে, কম খরচে ও স্বাচছন্ধে করতে
পারেন।বর্তমানে কম্পিউটারে বসে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার
করে ডিজাইনাররা তাদের কল্পণাকে বাস্থবে রূপায়িত করে থাকেন।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার কি বা তার কাজ কি?
প্রথমেই আমরা জেনে নেব, গ্রাফিক্স ডিজাইনার কি বা তার কাজ কি? তার আগে বলে নেই যে, গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো কলা’র বা আর্টের ডিজাইনার। চমৎকার কাজের যিনি একটি ভালো প্রভাব ফেলতে পারেন। ক্রেতার বা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বেশ কিছু কালার, ইমেজ, টাইপফেস এবং অ্যানিমেশন ব্যবহার করার মাধ্যমে তার মনের মত করে উপস্থাপন করা।বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার কাজকে আরো বেশি ক্রিয়েটিভ ও গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি তৃপ্তি দিতে পারছেন। বর্তমান সময়ে সচরাচর পাওয়া বিভিন্ন ধরনের লেআউট ও টুলস ব্যবহার করার মাধ্যমে । কাজের ফলাফল ডিজিটাল আউটপুট বা প্রিন্ট উভয়ই হতে পারে।
কোন
আইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাছ থেকে আপনি সহজে শিখে নিতে
পারেন।সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারী
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
থেকে
শিখে নেয়া যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো ৪ মাস বা ৬ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করে
দেয়।মনোযোগের সাথে করলে এ কয়েক মাসই একজনের জন্য পর্যাপ্ত।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে যেখানে চাকরি পাবেন:
একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের দায়িত্ব হলো তার কাজ, পণ্য বা সেবার ওভারঅল লুক ও ভাবমূর্তি ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া ডিজাইন করা যতোই ভালো পণ্য হোক না কেনো সেটি প্রথমেই ব্যার্থ হবে। তাই একটি নিদ্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ক্রিয়েটিভিটি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মানকে উন্নত করে। তাই নিজেকে ভালোভাবে তৈরি করতে পারলে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজের অভাব হয় না! সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সম্প্রতি দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ গ্রাফিক্স ডিজাইনার আত্বনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী।►একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজের ক্ষেত্র কোথায় হতে পারে তার একটি তালিকা দেওয়া হলো-▼
→ ইন্টার্যাক্টিভ মিডিয়া:
কয়জন গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার কাজের সঠিক মূল্যায়ন ও ভাগ্যকে পরিবর্তন করার যে ক্ষেত্রটি পান সেটি হলো ইন্টার্যাক্টিভ মিডিয়া। এখানে বিশেষত টেক্সট, গ্রাফিক্স, ভিডিও, অ্যানিমেশন, অডিওসহ যেকেনো কিছু এবং এ সম্পর্কিত সব কিছুই নিয়ে কাজ হয়। আমার মতে ইন্টার্যাক্টিভ মিডিয়া হলো তেমনই একটি ভালো নিশ যেখানে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার কাজকে প্রস্ফুটিত করতে পারেন।→ প্রমোশনাল ডিসপ্লে:
সাধারণত যারা বড় ধরনের বা বড় আকারের কাজ করতে চান বা কঠোর পরিশ্রম করতে পারবেন তাদের জন্য এটি একটি ভালো মাধ্যম। এ কাজগুলো মূলত বিভিণœ অ্যাডমিডিয়াতে পাওয়া যায়। এখানে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারকে বিভিন্ন ধরণের বিলবোর্ড ডিজাইন এবং একই ধরণের প্রোমোশনার ডিসপ্লে ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে হয়।
→ জার্নাল:
বিভিন্ন ধরণের জার্নালগুলো (বিষয়ভিত্তিক বা ব্যাঙ্গাত্বক) ক্রিয়েটিভ গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এখানে সাধারণত পাঠককে আকৃষ্ট করার কাজটি করতে হয়। এখানে আপনাকে ছোটখাটো লোগো, ইমোটিকন থেকে শুরু করে কমপ্লিট কাভার ডিজাইন করতে হতে পারে।
→ কর্পোরেট
রিপোর্টস:
এটি রেগুলার জব না হলেও কম নয়! একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার বিভিন্ন কোম্পানির কর্পোরেট রিপোর্ট তৈরি করে ভালোমানের আয় করতে পারেন। এটা অনেকটাই প্রফেশনাল কিন্তু মোটেই বোরিং কাজ নয়। কাজের মধ্যে অনেক স্বাচ্ছদ্য বোধ করা যায়।
→ মার্কেটিং
ব্রোশিউর:
এটিও অনেকটাই প্রোমোশনাল ডিসপ্লের কাজের মতো। এখানে আপনাকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বা সেবা নিয়ে ডিজাইনের কাজটি করতে হবে। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার ছাড়া যেহেতু কাজটি সম্ভব নয়, তাই এখানেও আপনার কাজের ক্ষেত্রটি হতে পারে।
→ সংবাদপত্র:
গ্রাফিক্স ডিজাইনার ছাড়া সংবাদপত্র! মোটেই সম্ভব নয়। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার একটি সংবাদপত্রকে ঠিকই সংবাদপত্রেরই মতো করে তোলেন। ফাইনাল লেআউট দেওয়ার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনার অবশ্যই জরুরী। এখানে আপনার পেশার সন্মানটাও বেশি। তাই সংবাদপত্র একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের জন্য একটি সাফল্যজনক কাজের ক্ষেত্র।
→ ম্যাগাজিন:
এটাও মূলত সংবাদপত্র ও জার্নালের মতো। তবে ম্যাগাজিনে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজের পরিমান অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি। কারণ ম্যাগাজিনে ভিজ্যুয়াল লেআউট বেশি থাকে। তাই ম্যাগাজিনের প্রত্যেকটা প্রকাশনার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনার, অবশ্যই আবশ্যক। এটাও আপনার যথোপযুক্ত কাজের ক্ষেত্র হতে পারে।
→ লোগো ডিজাইন:
একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ হলো লোগো ডিজাইন। এক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করতে বেশি সময় লাগে না। আপনার ক্রিয়েটিভিই হলো লোগো ডিজাইনের মূল কথা। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই তার প্রতিষ্ঠানের লোগো তৈরির জন্য একজন ফ্রিল্যান্স লোগো ডিজাইনার অর্থাৎ গ্রাফিক্স ডিজাইনারে খোঁজ করেন। তাই আপনি সহজেই কাজ পাবেন এবং ভালো করতে পারলে তাদেরকেই আপনার রেগুলার বায়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
Written by Md. Suhel Ahmed
you can also read:
you can also read:
* জ্ঞান আহরণের চেয়ে তা ছড়িয়ে দেয়ার আনন্দই হোক শিক্ষা প্রদানের মূলনীতি।
* মহাকাশেই তৈরি হবে ভাসমান হোটেল
*The tourism industry could be a rising sector in the economy of Bangladesh. But why in backward?
*The tourism industry could be a rising sector in the economy of Bangladesh. But why in backward?



very nice....
ReplyDelete